শুক্রবার, ১৫ মে, ২০১৫

সম্ভাবনা


একটা বন্ধ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাজারটা সম্ভাবনার কথা ভাবি।
ভাবি ওপারে একটা নরোম দুপুর তন্দ্রার রাঙে মুড়ে পড়ে আছে টবের গোড়ায়। পাশে হামা দেয়া অলস বেড়াল চোখটা কুঁচকে নিয়ে শরীরটা পাল্টে দেয়। তাতে শাদা কামিজের ওই মেয়েটি আরেকটিবার উঁকি দেয় ওপাশের নীল দরজায়। আর তারপর হাট হাট খুলে যায় একেকটা দরজা। খুলে যেতে যেতে দালানের পর দালান বিল্ডিঙের পর বিল্ডিং খুলে যায়। দরজা থেকে দরজা থেকে দরজা একটা লম্বা টানেলের মতো খুলে যায় এই শহরের। শহর খুলে গ্রাম গ্রাম খুলে নদী নদী খুলে হাড়শাদা আকাশ খুলে যায়। পৃথিবীর ভেতর দিয়ে এক মহাজাগতিক টানেল দূরে আরো আরো দূরে চলে যায়। চলে চলে যায়।
শুধু একটা দরজা, সমস্ত সম্ভাবনা নিয়ে, এপাশে বন্ধ থাকে।

এসএসসি'র কবর


[একচুয়েলি সব পরীক্ষারই কবর রচিত হয়েছে। এসএসসি উসিলামাত্র। জসীমউদ্দিনের কবর কবিতাটা আবার মনে পড়ল। ফলে একটা প্যারোডিও হলো--]

এইখানে তোর এসএসসি'র কবর গুলবাগিচার তলে
একেকটা মাস ভিজায়ে রেখেছি কেরোসিন পেট্রলে।
ভেবেছিনু তারে এই বৎসরে লইয়া করিব শেষ
হরতালে হায় দেরী হয়ে যায় জ্বলে পুড়ে যায় দেশ।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিছি ভেবে হইতেছি সারা,
সারা দেশ ভরি পেট্রল বোমা ছড়াইয়া দিল কারা।
কারা ছড়াইল এই আতঙ্ক কারা করে সন্ত্রাস
পথে-ঘাটে লোক মরে পড়ে থাকে কারা ফেলে এই লাশ?
এমন করিয়া কেহ লোক মারে কেন ঝগড়ায় পিষে?
হরতাল আর অবরোধ মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।
কী করিয়া তোর পড়ালেখা হবে কী করিয়া হবে পাশ
চারিদিকে যেন ওরাং ওটাং চারিপাশে যেন বাঁশ!
টিভিটা হইতে খবর আসিছে হরতাল হবে ফের
সব আয়োজন সারা করা গেছে এসএসসি কবরের।
জোড়হাতে দাদু মোনাজাত কর, আয় খোদা, রহমান
ঠিক সময়েই এসএসসি'টা যেন থাকে চলমান!

পা নেই বলে


শার্ট হাঁটে না, শার্টের পা নেই। ফলে কখনো হলো না তার মুখোমুখি বসিবার ঘনঘটা। হাজার হাজার বছর হাঁটিবার পর, শুধু পা নেই বলেই, পাখির নীড়ের মতো ঠিকানা তার হলো না পাওয়া। দুদণ্ড শান্তি পেয়ে যাওয়া হলো না ট্রাম লাইনের দিকে।

পা নেই বলেই রোমশ বিশাল বপু টানটান বোতামে তাকে শরীরে আঁটকে নিলো, ছুটে পালাতে পারলো না পা নেই বলে।

ধরো এর অধিক কী প্রয়োজন!



ধরো
বাতাস তো আছে
বিশেষত মনে
আর কিছু কিছু গাছে

ফুল আছে ফল
আছে কিছু কিছু
আম জাম লিচু

পাখি ডাকে শাখে
কাকই বিশেষত
আর মেঘ আছে কত
মধু না থাক মৌচাকে
ধরো
মোম আছে

পেঁপের ডাঁটায় ভরে
বেশ এক বিজ্ঞানে
জ্ঞানালোক জ্বালি
ধরো ঘরে ঘরে ।

মারমেড



যেদিন তোমায় দেখলাম তুমি ভিজে গেছো আর তোমার চুলে কুয়াশার মতো ঘ্রাণ, তোমার চোখে গলা কাজলের ছোপ, শীতার্ত আহ্বান অধরের ভাঁজে- কম্পমান, গ্রীবায় পারদের বৈভব, তোমার শরীরে পিছলে পরা নীলাভ জ্যোত্‍স্না, আর পা দুইটা মোড়ানো এক কিংখাব, জানলাম তুমি জলপরী এক; সেদিন থেকে আবার মেঘের আশে থাকি, আবার একটা বৃষ্টি যেন হয়, তোমাকে আবার যেন ভেজাতে পারি রিমঝিম, তুমি যেন আবার জলপরী হয়ে ওঠো।

পতনপ্রবণ


ছিলাম মুখে মুখে
আদরে সরসে
দৈন্য হলে দিন
মেঘের বিসুখে
নদীও শুকায়
পাথুরে শ্যাওলা মরে যায়
আর ঝরে যাই আমি

আমিও যাচ্ছি ঝরে
পতনপ্রবণ
বিশ্বাসী শাখা থেকে
বাতাসে বেদনা রেখে
মৃদু নেচে মৃত্যুর দিকে কেঁপে উঠছি ব্যথা
কেঁপে উঠছি সভয়ে
এক ব্যর্থ বিষণ্ণ পাতা

সবার হয়ে গেলে আমিও দাঁড়াই


সবার হয়ে গেলে আমিও দাঁড়াই।
ছড়ানো রয়েছে বীজ উত্তম ফসলের আশায়।

বুটজুতা পরে চলে গেছে দেশ।
মাটি লেগে আছে লাল লাঙলের ফলায়।

টুংটাং ব্ল্যাকহোয়াইট কাঠিবরফের সাথে চলে যায়
দূর আকাশের কাছে এক আঙুলের পথ।

ধা করে ফ্ল্যাশব্যাক সেঁটে আসে দেহে
সম্মুখে ছড়ানো দেবতার দেহ অতিকায়

ছর ছর ছর পতনের শব্দ বাজে নগরে সানাই
সবার হয়ে গেলে শেষে আমিও দাঁড়াই ॥