যাপিত রস
দাম্পত্যের দিনলিপি
৫ জুন ২০১৩স্ত্রী: আজ আমাদের বিয়ে। সকাল থেকে এত্ত বৃষ্টি যে মেজাজ খারাপ। ঠিক করে পার্লারেও যেতে পারিনি। আর আমার জিগরি দোস্ত আসতে অনেক লেট করেছে। সো, আমার এত্তগুলা মন খারাপ ছিল। আর বিয়ের সময় দেখি বরটা কেমন ভ্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে আছে। ওকে প্রেমের সময় অনেক স্মার্ট লাগত। আজকে এমন লাগল কেন কে জানে! বিয়ের শেষের দিকে কান্নাকাটির যে নিয়ম আছে, আমি ভুলেই গেছিলাম! তখন আমি জিগরি দোস্তের সঙ্গে খিলখিল করে হাসছিলাম। ভাগ্যিস ভাবি এসে কানে কানে বলল, ‘এভাবে হাসছিস কেন?’
স্বামী: বিয়ে যে এত জটিল জিনিস আগে বুঝিনি। বিয়েতে অদ্ভুত অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হঠাৎ ছোট ভাই এসে বলল, যে গরু কেটে দাওয়াত খাওয়ানোর কথা, সেই গরু নাকি দড়ি ছিঁড়ে পালিয়েছে! আমার তো ত্রাহি অবস্থা! এক দিকে কাজি কবুল পড়াচ্ছেন, অন্য দিকে আমার মন পড়ে আছে গরুতে। কবুল বলার সঙ্গে সঙ্গে বুকটা হঠাৎ ফাঁকা হয়ে গেল। বড় দুলাভাই এগিয়ে কানে কানে বললেন, ‘শালা রে, তোর আর আমার মধ্যে আজ থেকে কোনো পার্থক্য থাকল না! আজ থেকে তুইও আমার মতো স্বাধীনতা খুঁজে বেড়াবি, কিন্তু পাবি না।’ কিন্তু যত যা-ই বলি, সব টেনশনের মধ্যেও স্ত্রীকে দেখে আমার মনটা ভালো হয়ে গেল!
৭ আগস্ট ২০১৩
স্ত্রী: কী সুখেই না দিন কাটছিল! কিন্তু
একটা জিনিস বুঝলাম না, আমার রান্নায় যে লবণ কম হয়, তা এত দিন সে বলেনি কেন?
লবণ কম লাগে লবণ নিয়ে খাবে...এতে বলা না-বলার কী?
স্বামী: ওর তরকারিতে লবণ কম, এটা আমি এত দিন বলিনি কেন? আরে, বলিনি কেন এটা ও বোঝে না। এটাই তো ভালোবাসা, নাকি? এটা নিয়ে মন খারাপের কী আছে?
১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩
স্ত্রী: প্রতিদিন তাকে সন্ধ্যা পার করে
বাসায় ফিরতে হবে? কিসের এত আড্ডাবাজি? বাসায় থাকতে পারে না? আমাকে সময় দিতে
পারে না? আমি বলে দিয়েছি, এরপরে দরজা খুলব না!
স্বামী: সারা দিন কত কাজ থাকে। সন্ধ্যায়ই
না একটু আড্ডা দিই। সেটাও সে কেড়ে নেবে আমার জীবন থেকে? আমার অবিবাহিত
বন্ধুরা কত ভালো আছে, কত স্বাধীন ওরা! ওদের দেখলেই চোখে পানি চলে আসে। মনে
হয় আবার ফিরে যাই
ওই জীবনে!
২ ডিসেম্বর ২০১৩
স্ত্রী: আজকে বলেই দিলাম, বিয়ের এত দিন
পরেও আমরা হানিমুনে যাইনি। এইটা কোনো কথা হলো? নীলার সেই দিন বিয়ে হলো, এরই
মধ্যে ওরা দুইবার হানিমুনে গেছে! একবার নেপাল, একবার মালদ্বীপ। আমরা তো
পতেঙ্গাও গেলাম না!
স্বামী: শুনেছিলাম হানিমুন একটা মিষ্টি
ব্যাপার। এটাও কি ঝগড়ার উপাদান হতে পারে! নাহ্, এবার মরে গেলেও হানিমুনে
যেতে হবে! কিন্তু ছুটি পাব কীভাবে?
৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
স্ত্রী: আজ এত্তগুলা বই কিনেছি। হেব্বি খুশি!
স্বামী: এত বই এক দিনে মানুষ কেনে? আমার কোমর বাঁকা হয়ে গেছে বইয়ের ব্যাগ ধরে ধরে মেলায় হাঁটতে!
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
স্ত্রী: আই লাভ ইউ! কিন্তু ভালোবাসা দিবসে তুমি এইটা কী বললা? আমি যেন ঠিক করে তরকারিতে লবণ দিই! ভালোবাসা দিবসে কেউ এই জিনিস চাইতে পারে?
স্বামী: বুকে অনেক সাহস নিয়ে শেষ পর্যন্ত বলেই ফেললাম কথাটা। ভালোবাসা দিবসে আমি তার কাছ থেকে চাই তরকারিতে সঠিক পরিমাণে লবণ!
২৭ মে ২০১৪
স্ত্রী: ক্রিকেট ক্রিকেট ক্রিকেট! এত কিসের ক্রিকেট!
স্বামী: সিরিয়াল সিরিয়াল সিরিয়াল! এত কিসের সিরিয়াল!
৫ জুন ২০১৪
স্ত্রী: যে লোকের নিজের প্রথম বিবাহবার্ষিকী মনে থাকে না, তার সঙ্গে কথা নাই...
স্বামী: গ্রেট মিসটেক! বিবাহবার্ষিকী ভুলে গেছি! আগামী তিন মাস আমার সঙ্গে কী কী হবে বলা মুশকিল!
১৭ অক্টোবর ২০১৪
স্ত্রী: তুমি জানো না, বেশি লবণ খাওয়া খারাপ? তারপরেও কেন এত লবণ লবণ করো?
স্বামী: হয় লবণ দিবা নাহয় রিমোট!
ডিসেম্বর ৫, ২০১৪
স্ত্রী: হাসলে তোমাকে সুন্দর লাগে। কিন্তু তুমি হাসো না। সব সময় কপাল কুঁচকে বসে থাকো। কপাল কুঁচকে থাকলে তোমাকে ক্যাঙারুর মতো লাগে।
স্বামী: ক্যাঙারুর কপাল কুঁচকে থাকে? দেখেছে সে? আজগুবি এমন সব কথা বলে যে রাগ লাগে! এসব উদ্ভট কথা কোথায় শিখছে কে জানে!
জানুয়ারি ১৮, ২০১৫
স্ত্রী: বিয়ের আগে কত ভালো ছিল সে!
স্বামী: বিয়ের আগে কত ভালো ছিল সে!
মার্চ ১৫, ২০১৫
স্ত্রী: ও মা! এখন তরকারিতে লবণ বাড়িয়ে দিলে বলে লবণ বেশি লাগছে! মানে কী? তরকারিতে লবণের সমাধান কী তাহলে?
স্বামী: কী মুশকিল? এত দিন ধরে কম লবণের
তরকারি খেতে খেতে অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন লবণ একটু বেশি হলেই জিব যেন পুড়ে
যায়। তা ছাড়া লবণ বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খারাপও!
এপ্রিল ২২, ২০১৫
স্ত্রী: আর এই যে এই ছেলেটা মুস্তাফিজ...
এত্ত কিউট! ইয়েস ক্রিকেটে যে এত এক্সাইটমেন্ট, উফ্! ওর সঙ্গে বসে বসে
বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে চেঁচাই খুব। আই লাভ সাকিব। ওর সামনে বলি না। বললে
যদি আবার মাইন্ড করে!
স্বামী: সিরিয়ালগুলা খুব যে খারাপ তা কিন্তু না। পরপর কয়েক দিন দেখলে না নেশার মতো হয়ে যায়! আর ছাড়া যায় না।
জুন ৪, ২০১৫
স্ত্রী: কাল আমাদের বিবাহবার্ষিকী। আমি যে তাকে কী গিফট দেব, ভেবেই পাচ্ছি না! আর সেই-বা কী গিফট দেবে...উফ্, এক্সাইটমেন্টে ঘুম আসছে না!
স্বামী: বউ খুব ছটফট করছে। কেন কে জানে?
কালকে আবার কোনো কিছু নাকি? কারও বাসায়
দাওয়াত আছে নাকি?
পাদটীকা: দাম্পত্য জীবন একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকের নাম। এর শুরু আছে, শেষ নেই। এটি চলতেই থাকে। পরবর্তী সময়ে কী হলো তা জানতে আবার এই লেখাটিই প্রথম থেকে পড়া শুরু করতে পারেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন